Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages
Filter by Categories
Home 1st Lead
Home 2nd Lead
Home Article
Left Menu
news/article1
news/article2
Songbad
Songbad Article
খাল
ঝিল
তথ্যসূত্র
দীঘি
নদ
নদি
বাওর
বিল
সমভূমি
সাহিত্য
সৈকত
হাওর

কপোতাক্ষ নদ

কপোতাক্ষ নদ ভৈরব নদীর একটি শাখা। দ্রাবিড়পূর্ব জনগোষ্ঠীর ‌’কবদাক’ সংস্কৃত ভাষা ‘কপোতাক্ষ’-তে রুপান্তরিত হয়েছে। এই নদের পানি কপোত বা পাখির অক্ষির(চোখ) মতো স্বচ্ছ ছিলো বলে নদটির নাম হয় কপোতাক্ষ।

ইছামতী নদী কুষ্টিয়া জেলার কাছে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে একটি শাখা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে যা ভৈরব নামে পরিচিত। কোটচাঁদপুরের দক্ষিণে ভৈরব থেকে একটি শাখা বের হয়ে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে খুলনা জেলার পাইকগাছার কাছে শিবসা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ভৈরবের এই শাখাটিই কপোতাক্ষ নদ।

প্রকৃতপক্ষে, কপোতাক্ষের উৎপত্তি মাথাভাঙ্গা নদী থেকে। এই উৎপত্তি স্থলে মাথাভাঙ্গার একটি বাঁক ছিল। নদীর পথ সংক্ষিপ্ত করার জন্য একটি খাল খনন করে মাথাভাঙ্গার মূল স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন করা হলে মাথাভাঙ্গার সঙ্গে কপোতাক্ষ নদের সংযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ভৈরব থেকে মূল স্রোতধারা পেয়ে থাকে। গঙ্গা নদীর সঙ্গে মাথাভাঙ্গা এবং মাথাভাঙ্গার সঙ্গে কপোতাক্ষের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে কপোতাক্ষের স্রোতধারা ক্ষীণ হয়ে পড়ে। বর্ষাকাল ছাড়া অন্যান্য সময় স্থানীয় বৃষ্টি এবং চোয়ানো পানি এর প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়ায় এবং নদটি অধিকাংশ স্থানেই নাব্যতা হারায়।

গ্যীষ্মকালে ঝিকরগাছা উপজেলার কাছে নদটি প্রায় শুকিয়েই যায়। তালা উপজেলার কাছে উঁচু পাড় দেখে অনুমান করা হয় যে, এখানে একসময় নদটি ৭৫০ মিটার প্রশস্থ ছিল, বর্তমানে প্রায় ১৭০ মিটার। চাঁদখালীর কাছে নদটি প্রায় ৩০০ মিটার চওড়া।

নদটি প্রায় শুকিয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড গঙ্গা থেকে পানি পাম্প করে এই নদীর মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত করে এলাকায় জলসেচের ব্যবস্থা করেছে। এই প্রকল্পটির নাম গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প। কপোতাক্ষের পানি য়শোর জেলাতেও কোথাও কোথাও পাম্প করে সেচের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানের পানি প্রবাহ সেচ কাজের জন্য যথেষ্ট নয়। কপোতাক্ষ নদ এবং এর শাখা প্রশাখা দিয়ে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনার প্রায় ৩,৩১৫ বর্গ কিমি এলাকার জল নিস্কাশিত হয়। নদটি খুলনা জেলার সর্বত্রই নাব্য এবং লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা আছে। নদটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২৬০ কিমি।

কপোতাক্ষ নদ জোয়ারভাটা দ্বারা প্রভাবিত; তবে উৎপত্তি স্থল থেকে ঝিকরগাছা পর্যন্ত জোয়ারভাটার প্রভাবমুক্ত। লবণাক্ত পানি প্রতিরোধের জন্য নদীর তীরবর্তী দীর্ঘ এলাকায় বাঁধ দেওয়া হয়েছে। লবণাক্ততার কারণে খুলনা জেলার অংশে সেচকার্য সুবিধাজনক নয়; তবে চিংড়ি চাষের জন্য খুবই উপযোগী।

কপোতাক্ষ নদ চৌগাছা, ঝিকরগাছা, চাকলা ত্রিমোহনী, জীবনগর, কোটচাঁদপুর, সাগরদাড়িঁ, তালা, কুপিলমনি, বারলী, চাঁদখালী, বড়দল, আমাদী, বেদকাশী প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য স্থানের মধ্য দিয়ে প্রবাহত হয়েছে।

কপোতাক্ষ তীরেই মাইকেল মধূসূদন দত্তের জন্মস্থান সাগড়দাঁড়ি অবস্থিত।

ডকুমেন্টারী